Historic rally by Bangla Pokkho protesting Bengali persecution in BJP-ruled states । । । । বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলা পক্ষের ঐতিহাসিক মিছিল।


বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলা পক্ষের ঐতিহাসিক মিছিল


কলকাতা, ৯ আগস্ট, ২০২৫রাখি পূর্ণিমার পুণ্য লগ্নে কলকাতার রাজপথ ভরে উঠল বাঙালির ঐক্যের গর্জনে। কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে শ্যামবাজারের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশে শেষ হওয়া এই মিছিলে অংশ নিল হাজার হাজার মানুষ। বাংলা পক্ষের মূল দাবি— বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের উপর চলমান নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।


 

অভিযোগ

বাংলা পক্ষের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অনেককে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। কাজ হারিয়ে, আঘাত পেয়ে বাঙালি শ্রমিকরা বাংলায় ফিরছেন, অথচ বাংলার শিল্পাঞ্চল ও শহরে বহিরাগতরা চাকরি দখল করে রেখেছে।




ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখি বন্ধন উৎসব শুরু করেছিলেন বাঙালির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। বাংলা পক্ষ এই দিনটিকেই বেছে নিয়েছে ঐতিহাসিক সেই বার্তাকে স্মরণ করে প্রতিরোধের আহ্বান জানাতে।

                  


গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন,
“হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী, বাঙালি বিদ্বেষী বিজেপি আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে। কিন্তু আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচব, আমাদের জাতীয়তাবাদ আরও শক্তিশালী হবে। এই ষড়যন্ত্র আমরা রুখব।”
তিনি ‘ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান, যাতে ভিনরাজ্য থেকে ফেরা বেকার বাঙালিদের চাকরি নিশ্চিত হয়।


               

  

কৌশিক মাইতির অভিযোগ
সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি অভিযোগ করেন, বিজেপি ‘অনুপ্রবেশকারী তাড়ানোর’ নামে বাঙালি জাতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। “বাবাই সর্দার থেকে বুদ্ধদেব বারিক—অসংখ্য হিন্দু বাঙালি ডিটেনশন ক্যাম্পে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন,” জানান তিনি।


Advertisement:


মিছিলে মূল দাবি

  • বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
  • বাংলায় ভূমিপুত্র সংরক্ষণ নীতি চালু করে বাঙালিদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, আব্দুল লতিফ, সম্রাট কর, মহ সাহীন, সৌম্য কান্তি ঘোড়ই-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নেতৃত্ব মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।



            


                         


নতুন আন্দোলনের বার্তা
রাখি বন্ধনের দিনে ঐক্যের প্রতীক হয়ে বাংলা পক্ষের এই মিছিল যেন বাঙালির অধিকার আন্দোলনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। ঐতিহাসিক স্মৃতি, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের মেলবন্ধনে রাজপথ সাক্ষী থাকল বাঙালির গর্জনের।



Editor

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ