টানা 70 দিন নিয়মিত খাবার পৌঁছে দিয়েছেন পথের ধারে বসে থাকা সর্বহারা, গৃহহারা, ক্ষুধার্থদের, ফিনিক্স ফাউন্ডেশন ।
"মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে।
একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?" এই চির সত্যকে ব্রত করে সমাজের কাজে, বর্তমান সময়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন একদল তরুণ প্রজন্ম। করোনা আতঙ্কে যখন মানুষ গৃহবন্দী, খাদ্যের অভাবে যখন রাস্তায় রাস্তায় পাগল গুলো বসে আছে,ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য তখন নিজের জীবনের দিকে না তাঁকিয়ে অক্লান্ত কাজ করে চলেছেন এই তরুন তুর্কীরা।
জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্রে তাঁদের পরিচয় "ফিনিক্স ফাউন্ডেশন"।
কোনো সময় মাইক হাতে করোনা সচেতনতা মূলক প্রচার, আবার কোনো সময় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছনোর কাজ করেছেন। টানা 70 দিন নিয়মিত খাবার পৌঁছে দিয়েছেন পথ ধারে বসে থাকা সর্বহারা, গৃহহারা, ক্ষুধার্থ পাগলকে। "শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক’রে, আর এই প্রজন্মের লক্ষ্মীছাড়া ছেলে মেয়ে গুলো ময়নাগুড়ি শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পরেছেন আশার আলো। যখন আজকের যুব সমাজ বিভিন্ন নেশায় আসক্ত, যখন এই বয়সের ছেলেমেয়ে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, তখন আগামী প্রজন্মের কাছে মানুষের সেবার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। এই সংস্থার অন্যতম সদস্য রনি সাহা বলেন, " প্রতিটি মানুষের পবিত্র অন্তর বিশ্বদেবতার আকাঙ্ক্ষার দেউল।" তাই জীবের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন ঈশ্বরের আলো। হাসপাতালে পৌঁছানো থেকে গ্রামে গ্রামে মানুষের পাশে সবরকমের সাহায্য করেছেন তাঁরা। তাইতো তাঁদের কাজ মানুষ কে আস্থা যোগায়।
ময়নাগুড়ি শহরের সাধারন মানুষের মুখে জানা গেছে এঁরা সারা বছরই এই ধরনের কাজ করেন।কখনো গরিব ছাত্রছাত্রীদের বই খাতা দিয়েছেন, কখনো শ্রমজীবী মানুষের ওষুধ থেকে রক্ত, সবসময়ই এগিয়ে এসে মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারি সমস্ত নির্দেশ মেনে নিজেদের করোনা সাবধানতা অবলম্বন করে, দিন রাত কাজ করে চলছেন। জামা কাপড় থেকে খাবার সবই তাঁরা সংগ্রহ করে মানুষের কাছে বিতরন করেছেন।
ফিনিক্স ফাউন্ডেশন এর সদস্যরা জানিয়েছেন তাঁরা আগামী দিনে পরিকল্পনা মাফিক সমস্ত বিপদগ্রস্ত, অসুস্থ, সাধারন মানুষের কাছে,মানুষের পাশে পৌঁছনোর সঙ্কল্প নিয়ে, আগামি দিনে অনেক বেশী কাজ করবেন।
0 মন্তব্যসমূহ
Thankyou for your Feedback !