নয়াদিল্লি :
রেলের চাই এখন মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ ।
অর্থাৎ এক ব্যক্তি একাধিক পদে কাজ করবেন। যেমন স্টেশন মাস্টাররা একইসঙ্গে পালন করবেন ট্র্যাক মেনটেনার্সের ভূমিকা। চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করবেন রেলের অন-বোর্ড টেকনিশিয়ান কিংবা আরপিএফ কর্মীরাও। আর্থিক দিক দিয়ে টালমাটাল রেলকে বাঁচাতে এমনই প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন জোন থেকে। আর জোনালগুলির এহেন প্রস্তাবের ফলে রেল কর্মী সংকোচনের পথে হাঁটবে বলে তীব্র জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, লকডাউনের জেরে চরম আর্থিক ক্ষতির জের সামলাতেই কি এরকম প্রস্তাব নিয়ে নাড়াচাড়া করছে রেলমন্ত্রক? যদিও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। সরকারি সূত্রের খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে রেলের কোনও কর্মীকে যাতে সমস্যায় না পড়তে হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সেটিই সুনিশ্চিত করতে চাইছে মন্ত্রক।
এ ব্যাপারে রেল বোর্ডের মেম্বার (ট্র্যাফিক) পি এস মিশ্রা জানিয়েছেন, ‘আমরা এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। বিভিন্ন জোন অনেকরকম প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আপাতত সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও কর্মীরই আশঙ্কার কারণ নেই। কর্মীস্বার্থেই যাবতীয় পদক্ষেপ নেবে রেল।’ জানা যাচ্ছে, রেল বোর্ডের আয়তন সংকুচিত করে আইআরএমএস (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস) নামের যে একটিই পরিষেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, তারই আওতায় এই মাল্টি-টাস্কিংয়ের বিষয়টিকে রাখা হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দিতে চাইছে রেলমন্ত্রক। তবে একাধিক পদ একসঙ্গে জুড়ে গেলেও যাতে কোনও কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সম্মুখীন হতে না হয়, রেল বোর্ডের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে জোনগুলি।
এমনিতেই খরচ কমাতে শুধুমাত্র সুরক্ষা সংক্রান্ত পদ ছাড়া নতুন কোনও পোস্ট তৈরি করতে জোনগুলিকে নিষেধ করেছে রেল বোর্ড। পাশাপাশি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে গত দু’বছরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন পদের হালহকিকৎ। সেগুলিতে যদি কোনও নিয়োগ না হয়ে থাকে, তাহলে ওইসব পদও বিলুপ্ত করা যায় কি না, তা জোনগুলিকে দেখতে বলা হয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ
Thankyou for your Feedback !