দেশের অন্যান্য রাজ্যে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন থাকলে পশ্চিমবঙ্গে কেন নয়?’ দাবি তুলল বাংলা পক্ষ।
রাজ্যের মাটিতে ভূমিপুত্রদের অধিকার সংরক্ষণের দাবিতে এবার সরব হল বাংলা পক্ষ। সরকারি চাকরিতে ১০০ শতাংশের পাশাপাশি বেসরকারি চাকরি, বা ঠিকা কাজ বা যেকোনও টেন্ডারের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার থাকবে ভূমিপুত্রদেরই। নিজেদের এই দাবিকে সামনে রেখেই কোলাঘাটে জনসভা করল বাংলা পক্ষর পূর্ব মেদিনীপুর শাখা।
উল্লেখ্য, বাংলার ভূমিপুত্রদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে বাংলা পক্ষ-র লড়াই দীর্ঘ দিনের। হিন্দু-মুসলিম, জাতপাত, এসসি-এসটি-ওবিসিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আজ ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার লড়াইয়ে পর্যবসিত। এরই মাঝে ব্যতিক্রমী পথে হেঁটেছে এই সংগঠন। পূর্ব মেদিনীপুর বাংলা পক্ষ-র কোলাঘাটের জনসভায় ছিল সেই আন্দোলনেরই প্রতিফলন।
সংগঠনের জোরালো বক্তব্য, তাঁদের এই দাবি কোনও অংশেই অন্যায্য নয়। কারণ দেশের অন্যান্য রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে যদি ভূমিপুত্রদের জন্য সংরক্ষণের আইন চালু হতে পারে, তবে বাংলায় নয় কেন? এবার পশ্চিমবঙ্গেও ভূমিপুত্রদের সংরক্ষণের আইন চালুর পক্ষে আওয়াজ উঠল।
কোলাঘাটে হলদিয়া মোড়ে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইনের দাবিতে বিক্ষোভ-অবস্থান থেকে বাংলা পক্ষের বক্তব্য জোর গলায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডক্টর গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান, কংগ্রেস-শিবসেনা শাসিত মহারাষ্ট্র, বিজেপি জোট শাসিত হরিয়ানা, বিজেপি শাসিত গুজরাট, ওয়াই এসআর কংগ্রেস শাসিত অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্নাটক সহ প্রায় প্রতিটি রাজ্যে চাকরির ক্ষেত্রে ভূমিপুত্রদের জন্য কোটা রয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই, কোথাও ৭৫ কোথাও বা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ রাজ্যের মানুষের জন্য বরাদ্দ আছে।
"এখানে প্রশ্ন উঠেছে সংগঠনের কাছে ভূমিপুত্রের সঠিক সংজ্ঞা কী ? অর্থাৎ কারা বাংলার ভূমিপুত্র? সেই উত্তরও দিয়েছে বাংলা পক্ষ-ই। সংগঠনের শীর্ষ পদাধিকারীদের মতে, ১৫ থেকে ২০ বছর যাঁরা বাংলায় আছেন তাঁরাই ভূমিপুত্র। সেক্ষেত্রে সাঁওতাল, কোচ, নেপালি এমনকী বিহারি, মারোয়াড়িরাও ভূমিপুত্র। তাঁদের সমস্ত কিছুতেই অধিকার আছে।"
বাংলা পক্ষ-র কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতির কথায়, বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া মানুষের হার ৪.৮ শতাংশ। অথচ এ রাজ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশের ওপর অবাঙালি চাকরি করেন। কোনও কোনও শিল্পাঞ্চলে ৭০-৮০ শতাংশ বহিরাগত। এই পরিস্থিতিতে বাংলা পক্ষের দাবি, সরকারি ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ স্থায়ী বাসিন্দাকে চাকরি দিতে হবে। বিভিন্ন বেসরকারি ক্ষেত্র, ঠিকা কাজ, টেন্ডার বা ক্যাবের লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও ৯০ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে ভূমিপুত্রদের জন্য।
কোলাঘাটের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের শীর্ষ পরিষদ সদস্য ডক্টর অরিন্দম বিশ্বাস, সোয়েব আমিন, কালাচাঁদ চট্টোপাধ্যায়, অমিত সেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ করা যায়, সাম্প্রতিক জেলা সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বাংলায় চাকরির পেতে গেলে বাংলা ভাষাটা জানতে হবে আর এ রাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে। সংগঠনের জেলা সম্পাদক সুতনু পণ্ডিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার জন্য এদিনের মঞ্চ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, আইনে পরিণত করানোর জন্য আগামী দিনে জোরদার আন্দোলন চলবে।
🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩🟩
Jayant Das
UBN Editor,
Binnaguri/Siliguri/Chandernagore
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
কোনও খবর রিপোর্ট করার থাকলে, আমাদের পেইজ এ যোগাযোগ করবেন, কিংবা এই নাম্বার এ কাল করুন । ৯০৮৮৮৬২৯৩০
UBN
0 মন্তব্যসমূহ
Thankyou for your Feedback !